ফরিদগঞ্জ ইউনিয়ন হিসাবে সহকারির সাথে মনমালিন্য থাকায় কথিত ছাত্র সমন্বয়ক দিয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণে হট্টগল সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠে ইউপি সচিব মোস্তফা কামাল শামীমের দিকে।
অভিযোগের আলোকে জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ভিজিএফের চাল বিতরণ করে গত ১৬ মার্চ (রবিবার), এর পূর্বেই চালের কার্ড বিতরণ করেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে, ১৭২৭ পিস কার্ড বিতরণের কথা থাকলেও সঠিক ভাবে কার্ড বিতরণ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পাশ কাটিয়ে এলাকার কথিত ছাত্র সমন্বয়ককে সাথে নিয়ে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ ও চাল বিলি করেছেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারি ইউনুছের সাথে মনমালিন্য থাকায় ওই সমন্বয়ককে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারি ইউনুছের বিরুদ্ধে কার্ড হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন ইউপি সচিব।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সরকারি ভাবে বরাদ্দ ১৭শত ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করার এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের এলাকার কথিত সমন্বয়ক মোস্তফা অভিযোগ তুলেন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারি ইউনুছ তার পরিবারের সদস্যদের জন্য একাধিক কার্ড নিয়ে চাল নিচ্ছে। এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অনুসন্ধানে গেলে উঠে আসে ভিন্নচিত্র স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শামিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পাশ কাটিয়ে সমন্বয়ক মোস্তফার সহযোগিতা নিয়ে ভিজিএফ এর কার্ড বিতরণ ও চাল বিতরণ করেছেন। এমনকি সমন্বয়ক মোস্তফাকে তিনি ভিজিএফর ১০টি কার্ড দিয়েছেন। এমনকি তার সাথে মনমালিণ্য থাকায় ভিন্ন ভাবে ভিজিএফ কার্ড সংগ্রহ করা হিসাব সহকারি ইউনুছকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারি মো. ইউনুছ বলেন, আমি আমার বাড়ির লোকজনের কয়েকটি কার্ড সংগ্রহ করে তাদের দিয়েছি। তারাও নিজেরাই চাল সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে একজন আমার ছোট ভাইএর স্ত্রী আছমা আক্তর, সে তার একটি কার্ড, প্রতিবেশি এক কাকির একটি কার্ড নিয়ে চাল নিদে আসলে সমন্বয়ক পরিচয়ে মোস্তফা হট্টগল করে এবং আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। সমন্বয়ক মোস্তফা আমার বাড়ির ছেলে। তার সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। একটি পক্ষ সুযোগ বুঝে তাকে ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎের যে অভিযোগ তুলেছে তা সম্পূন্ন মিথ্যা, এছাড়াও ইউনিয়ন সচিবের সাইন নকল করে চেক জ্বালিয়াতি, বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায় এসব আমি কখনো করি নাই, সচিব অফিসিয়াল সকল কাজ বাহির থেকে করান, টুকিটাকি কম্পিউটারের কাজ গুলো আমাকে দিয়ে করান, আপনারা চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যদের মাথে কথা বলরেই ক্লিয়ার হবেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে তথ্যগুলো প্রচার করেছে, তা সম্পন্ন মিথ্যা।
আছমা আক্তার বলেন, আমাকে ইউনুস ভাই ২টা কার্ড দিয়েছে, ১টা কার্ড পাসের একজন কাকির, আরেকটা আমার, এ দুইটা কার্ড নিয়ে আমি ওইদিন পরিষদে চাউলের জন্য যাই, ওখানে আমাদের এলাকারও অনেকই ছিলো, আমার বাবার কাড়ি থেকে আমার প্রতিবেশিরা কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গেটের মামনে, ওনাদের ৪টা কার্ড আর আমার ২টা মোট ৬টা কার্ড নিয়ে ঢুকলে মোস্তফা নামে একজন হট্টগল শুরু করে, উনি ভিডিও করে আর বিভিন্ন কথাবার্তা বলা শুরু করেছে। আমি আমার কার্ড আর অন্যযাদের কার্ড নিয়েছি, সেগুলো চাউল নিয়ে চলে আসছি, পরে অনেকের কাছে শুনেছি, ফেসবুকে ভিডিও ছাড়ছে, নিউজ করেছে, আমার থেকে কোন বক্তব্য নেয় নাই, কিছু জিজ্ঞেস করে নাই। আমার চাউল নেওয়া ছবি দিয়ে ফেসবুকে নিউজ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্যরা জানান, সচিব তথা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামিম তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে পরিষদ পরিচালনা করছেন। পরিষদে আমরা থেকেও নাই। সর্বশেষ ভিজিএফ এর কার্ড বিতরণ ও চাল বিতরণেও একই ঘটনা ঘটেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের পাটওয়ারী জানান, আমি ফ্যাসিবাদের আমলেও জনগনের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তারা আমাকে ভালোবেসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। আমি তাদের একটা ভিজিএফের একটা কার্ড দিতে পারি না। সচিব আমাকে না জানিয়ে নিজে নিজে কাকে কিভাবে কি দিচ্ছে আমি জানি না।
ইউনিয় পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শামিম বলেন, চেয়ারম্যানসহ সকলের উপস্থিতিতে মাস্টাররোলে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিয়ে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আমরা চাল বিতরণ করে কার্ড সংগ্রহ করার সময়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে মোস্তফা ১০টি কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং হট্টগোল সৃষ্টি করে।
এবিষয়ে সমন্বয়ক পরিচয় দেয়া মোস্তফা জানান, কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া ও আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জেনে ও চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ হারুনুর রশিদ
বার্তা সম্পাদক : জাকির হোসেন শাকিল
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন
"এইচ বাংলা মিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত -দেশ যুগান্তর"
অফিস : পুরানা পল্টন, ঢাকা- ১০০০।
ই-মেইল : news.deshjugantor@gmail.com
যোগাযোগ : 01763592492
Copyright © 2025 দেশ যুগান্তর. All rights reserved.